আড়ং কোয়ালিটি সুতি শাড়ি

বধূয়া
পেটানো পাড়ের টাঙ্গাইল তাঁতের সুতি শাড়ি

সেই ছোট্টবেলার কথা। সম্ভবত ১৯৯৮ সাল। স্কুলে আম-কাঁঠালের ছুটি চলছে। ও হ্যাঁ, ৯০ দশকে সামার ভ্যাকেশনকে আম-কাঁঠালের ছুটিই বলা হতো। গ্রীষ্মকাল মানেই তখন আম, কাঁঠাল, লিচু আর জামের রসে অবগাহন। এই আম-কাঁঠালের ছুটিতে তখন মায়েরা ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে যেতো ছুটি কাটাতে। আমরাও গিয়েছিলাম সেবার।

হুট করেই এক মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশের বাড়ির শেফালী খালার বিয়ে হয়ে গেলো। লাল টুকটুকে জরির কাজের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে খালা সংসার করতে ছুটলেন পাশের এক গ্রামে। মনে আছে পুরো বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা সবাই খুব আনন্দ করেছিলাম। কলাগাছের গেট বানানো, গাছ থেকে তোলা মেহেদীপাতা বাটা, খালার গায়ে হলুদ লাগানো সবকিছু খুব উপভোগ করেছিলাম। সামিয়ানা টাঙিয়ে টেবিল পেতে বরযাত্রীদের কাঁচের কড়িথালায় খেতে দেওয়া হয়েছিল মোটাচালের ভাত আর গরুর গোশত। শেষপাতে ছিল জলিল ময়রার চিনিপাতা দৈ। কিন্তু সব আনন্দ শেষে যখন দুইটি গরুর গাড়ি আর একটি পায়ে চলা রিক্সায় করে বরযাত্রী খালাকে নিয়ে চলে যাচ্ছিলো, আমার কান্না তখন দেখে কে!! খালা যে আমার বাড়ির দাওয়ায় আমগাছের ডালে পাতা দোলনায় দোল খাওয়ার সাথী। 😢

আড়ং কোয়ালিটি সুতি শাড়ি

খালার বিয়ের পর আমার আর দোল খেতে ভালো লাগতো না। একমাস দীর্ঘ আম-কাঁঠালের ছুটি যেন কাটতেই চাইছিলো না। এমনই এক অলস দুপুরে খাওয়ার পর মা আমাকে নিয়ে শুয়ে ভাত ঘুম দিয়েছিলেন। হুট করেই কারও খিলখিল শব্দের মন মাতানো হাসিতে ঘুম ভেঙে গেলো। বিছানার পাশের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি লাল টুকটুকে কমলাপেড়ে শাড়ি গায়ে জড়িয়ে শেফালী খালা আমার দোলনায় বসে দোল খাচ্ছে আর হেসে গড়িয়ে পড়ছে।

আমি দৌঁড়ে গেলাম তার কাছে। খালা আমাকে কোলে তুলে আদর করলেন। লাল টুকটুকে শাড়িতে খালাকে কি যে সুন্দর লাগছিলো!
শাড়ি নিয়ে কাজ শুরুর পর থেকেই সেই নতুন বউ বউ শাড়িটি আমার মাথায় ঘুরে ফিরে বারবার আসতো। স্বপ্নেও আমি শেফালী খালাকে অনেকদিন দেখেছি সেই কমলাপেড়ে লাল শাড়ি পরে আমার দোলনায় দোল খেতে। আর মনে মনে ভেবেছি একদিন এই শাড়ি বানাবোই।

আড়ং কোয়ালিটি সুতি শাড়ি

এই সেই শাড়ি আমার। নতুন বউ শেফালী খালার সাথে মিলিয়ে নাম দিয়েছি “বধূয়া”। আবহমান বাংলার চিরাচরিত সাংস্কৃতিক উৎসব বিয়েতে নতুন বউয়েরা ঠিক এমনই সুন্দর তাঁতের শাড়ি উপহার পেতেন। একদম সুতি হাতে কাটা সুতায় গর্ততাতে বোনা তুলতুলে শাড়ি এটি। সিঁদুর লাল রঙের জমিনে কমলা পাড়। সাথে সুতার কাজে আবহমান বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতির অংশ লতা ও কড়ির ডিজাইন। আঁচলটা পাড়ের সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছে কমলা রঙের।

এই শাড়ি শুধু শাড়ি নয়, এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির পরিচায়ক যেখানে বিয়ে ও নববধূর পোশাক হিসেবে লাল শাড়ি ছিল সবচেয়ে আরাধ্য জিনিস।

Shopping Cart
Home
Category
0
Search
WhatsApp
Scroll to Top